#Industrial_Attachment
.
পলিটেকনিকে ৭ম পূর্বে উঠলেই সব শিক্ষার্থীর বিশাল টেনশনের কারণ হয়ে উঠে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এটাচমেন্ট....। কি করবে, কোথায় যাবে, কিভাবে যাবে। কিছুই জানে না তারা। শিক্ষকরাও ঠিকভাবে গাইডলাইন দেয় না। কেউ কেউ টেনশান আরো বাড়িয়ে দেয়। সিনিয়ররাও হেল্প করে না। ফলে ব্যাপক টেনশনে থাকা লাগে এটাচমেন্ট নিয়ে। পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এটাচমেন্টে অনেক কিছু শিখে ফেলব, অনেক কিছু জেনে ফেলব, অনেক ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে ফেলব; এইসব ভাবে সবাই। আদতে যার কিছুই হয় না। ইন্ডস্ট্রিয়াল এটাচমেন্টে করণীয়ঃ
.
১) কিছু ইন্সটিটিউটে শিক্ষকরাই এটাচমেন্ট সম্পর্কিত সব কাজ করে দেন। ছাত্ররা শুধু স্যারদের দেয়া প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এটাচমেন্ট করে। স্যাররাই অফিসিয়াল সব কাজ করেন। অনেক শিক্ষক নিজ উদ্যেগে শিক্ষার্থীদের জন্য যাবতীয় সব ব্যবস্থাই করে দেন। এমন শিক্ষক থাকলে; তাঁর সাথে যোগাযোগ করুন সবাই।
২) শিক্ষক বা ইন্সটিটিউট থেকে এটাচমেন্ট ম্যানেজ না করে দিলে; বিভাগীয় প্রধানের সাথে আলোচনা করুন। উনারা কোথাও পাঠাবে কি না। নাকি নিজেরাই ব্যবস্থা করতে হবে। নিজেরা ব্যবস্থা করা লাগলে; পরবর্তী ধাপ সমুহ বলে দিচ্ছি।
ক) পরিচিত সরকারি প্রতিষ্ঠান, ইন্ডাস্ট্রি, কনসাল্ট্যান্ট বা ট্রেনিং সেন্টারে খবর নিন; তারা এটাচমেন্ট করায় কি না।
খ) এটাচমেন্ট করালে সহপাঠীদের ৫-১০জন নিয়ে একটা গ্রুপ করতে হবে। যারা আপনার সাথে উক্ত প্রতিষ্ঠানে এটাচমেন্ট করবে আগ্রহী।
গ) স্যারদেরকে সেই প্রতিষ্ঠানের কথা জানাতে হবে কিংবা স্যাররা জানতে চাইলে বলতে হবে প্রতিষ্ঠানের কথা। অনেক সময় শিক্ষকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যেতে বারণ করেন। তাই আগেই মৌখিকভাবে শিক্ষকের সম্মতি আদায় করুন। আপনার কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিভাগীয় প্রধানকে অবহিত করুন।
ঘ) বিভাগীয় প্রধান রাজী থাকলে; ৭ম পর্ব চলাকালীন অথবা ফাইনাল পরীক্ষা শেষে প্রিন্সিপ্যাল অথবা বিভাগীয় প্রধানের প্যাডে একটি চিঠি দিবে সেই প্রতিষ্ঠান বরাবর। চিঠিতে আপনাদের নাম, রোল নাম্বার, মোবাইল নাম্বার, পর্ব ও ডিপার্টমেন্ট উল্লেখ থাকবে। স্যারদের কাছে চিঠির নমুনা রয়েছে। চিঠির দুইটা কপি নিয়ে গেলেই আপনার এটাচমেন্ট শুরু করে দিবে প্রতিষ্ঠান। একটি কপি সাইন ও রিসিভ করিয়ে ডিপার্টমেন্টে জমা দিয়ে যাবেন। অথবা নিজেদের কাছে রাখবেন।
.
৩) প্রতিষ্ঠান তাদের সিডিউল অনুযায়ী শিখাবে কাজ। রুটিন করে দিবে। এরপরে পরবর্তী ২মাস আপনাদের আর কোন কাজ নেই। শুধু এটাচমেন্ট করাই কাজ।
৪) এটাচমেন্টে যাওয়ার পূর্বে অথবা শেষেরদিকে কলেজ থেকে লগবই দিবে। কি কি কাজ শিখেছেন সেটি লগবইতে পূরণ করে দিতে হবে। এটাচমেন্ট প্রতিষ্ঠান লগবই সাইন করে দিবে। কলেজে লগবই জমা দিবেন সাইন নিয়ে।
৫) কলেজ থেকে প্রতিজনের এটাচমেন্ট সম্মানী বাবদ সামান্য কিছু অর্থ বরাদ্দ থাকে এটাচমেন্ট করানো প্রতিষ্ঠানের জন্য। অনেক প্রতিষ্ঠান নেয় না। কম টাকা হওয়ায়; কেউ মাথা ঘামায় না। বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়েই এটাচমেন্ট করায়। তবে সরকারিতে ফ্রি করায়। বেসরকারি অধিকাংশ শিল্প-কারখানাই ফ্রি করায়।
.
এটাচমেন্টকে যতটা প্যারা মনে করেন; এর কিছুই কিন্তু নেই। সেমিস্টারের শুরু থেকে প্যারা নেয়ার দরকার নেই। এর আগে কোথায় এটাচমেন্ট করতে চান; খোঁজখবর নিয়ে রাখলেই হল। ফাইনাল পরীক্ষা শেষে জাস্ট বিভাগীয় প্রধানের চিঠি দেয়াই একমাত্র কাজ।
.
শিল্প-প্রতিষ্ঠানে গেলে শিল্প-শ্রমিক সম্পর্ক ভালভাবে দেখবেন। মেশিনারি সম্পর্কে ধারণা নিবেন। কন্সট্রাকশন সাইটের কাজ শিখবেন। কম্পিউটারের স্কিল বাড়াবেন। ৪-বছরে যা শিখতে পারেন নাই; ৩-মাসে শিখে ফেলবেন ভাবার সুযোগ নাই। শুধু ছাত্রজীবন থেকে কর্মজীবনে পা রাখার প্রথম সিড়ি হচ্ছে এটাচমেন্ট।
সবার জন্য শুভকামনা রইল।